শহীদনূর আহমেদ::
সুনামগঞ্জে চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ সরবরাহ কমে যাওয়ায় ভয়াবহ লোডশেডিংয়ের কবলে পড়েছে জনজীবন। জেলা শহর থেকে শুরু করে ১২টি উপজেলার অধিকাংশ এলাকায় দিন-রাত মিলিয়ে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎবিহীন থাকতে হচ্ছে মানুষকে। পৌর শহরে প্রতিদিন ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা এবং উপজেলা ও গ্রামাঞ্চলে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। কোথাও কোথাও এর মাত্রা আরও বেশি। প্রচ- গরমের মধ্যে ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন শিশু, বয়স্ক ও নারীরা। বিদ্যুৎ সংকটের কারণে কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা কার্যক্রম, ক্ষুদ্র শিল্প ও উৎপাদনমুখী প্রতিষ্ঠানগুলোও ক্ষতির মুখে পড়েছে। বিশ্বকাপ ফুটবলের খেলার সময়েও বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ক্রীড়াপ্রেমীরাও। সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ বিভাগ বলছে, জাতীয় গ্রিড থেকে চাহিদার তুলনায় কম বিদ্যুৎ পাওয়ায় বাধ্য হয়ে লোডশেডিং দিতে হচ্ছে। সুনামগঞ্জ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) সূত্রে জানা গেছে, তাদের আওতাধীন এলাকায় প্রায় ৩৫ হাজার গ্রাহক রয়েছেন। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে দৈনিক ১২ থেকে সাড়ে ১২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ প্রয়োজন হলেও বর্তমানে জাতীয় গ্রিড থেকে মাত্র ৭ থেকে ৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। ফলে পিডিবির ৯টি ফিডারের মধ্যে ৩ থেকে ৪টি ফিডার পর্যায়ক্রমে বন্ধ রাখতে হচ্ছে। সুনামগঞ্জ প্রধান গ্রিড সাব-স্টেশন (১৩২/৩৩ কেভি) ও ৩৩/১১ কেভি সাব-স্টেশন সূত্র জানায়, জাতীয় গ্রিডে উৎপাদন ঘাটতির কারণে চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্ভব হচ্ছে না। প্রাপ্ত বিদ্যুৎ পিডিবি ও পল্লী বিদ্যুতের মধ্যে ভাগ করে সরবরাহ করা হচ্ছে। জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুৎ সংকট আরও প্রকট আকার ধারণ করেছে। অনেক এলাকায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১০ ঘণ্টারও বেশি সময় বিদ্যুৎ থাকছে না। বিশেষ করে গভীর রাতে বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় গরমে অতিষ্ঠ হয়ে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। দিরাই উপজেলার জগদল ইউনিয়নের বাসিন্দা জিলানী মিয়া বলেন, পল্লী বিদ্যুতের সীমাহীন লোডশেডিংয়ে আমরা অতিষ্ঠ। দিনে গড়ে ১২ ঘণ্টার মতো বিদ্যুৎ পাই, বাকি সময় বিদ্যুৎ থাকে না। এভাবে চলতে থাকলে স্বাভাবিক জীবনযাপন কঠিন হয়ে পড়বে। সুনামগঞ্জ শহরের বড়পাড়া এলাকার বাসিন্দা আব্দুল বাসির বলেন, সারাদিনে কতবার বিদ্যুৎ যায় তার হিসাব নেই। গত এক সপ্তাহ ধরে শুধু রাতেই ৭-৮ ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে। গরমে ঘুমানো যায় না, শিশুদের পড়াশোনাও ব্যাহত হচ্ছে। বিশ্বকাপের খেলার সময়ও বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে।
এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাসেল আহমদ বলেন, চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে না। তাই পর্যায়ক্রমে একাধিক ফিডার বন্ধ রাখতে হচ্ছে। ফলে গ্রাহকদের নির্দিষ্ট সময় পরপর লোডশেডিংয়ের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। আমরা প্রাপ্ত বিদ্যুতের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করে গ্রাহকদের সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি। সাময়িক এই ভোগান্তির জন্য আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি।
নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha
চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ ঘাটতি
দিনে ৭-১২ ঘণ্টা লোডশেডিং অতিষ্ঠ জনজীবন
- আপলোড সময় : ১৭-০৬-২০২৬ ১১:৫৬:০৫ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ১৭-০৬-২০২৬ ১১:৫৬:৪৯ পূর্বাহ্ন
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ

স্টাফ রিপোর্টার, দৈনিক সুনামকণ্ঠ